বর্তমানে প্রতিটি মানুষ আস্থা রাখেন ভেষজ দ্রব্যের উপরে। খাবার-দাবার'ই হোক না কেন আর পানীয়ই বা হোক না কেন, ভেষজ দ্রব্যের কদর সারা সমাজের মধ্যে সমাদৃত। বিশেষ করে চিকিৎসা পদ্ধতিতে অনেকেই ভেষজ দ্রব্যের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। যেমন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ভেষজ দ্রব্যের উপর নির্ভর করে এই সমস্ত পথ্যাদি তৈরি হয়। সেরকমই এক অনন্য ভেষজ উপাদান আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে যা ব্যবহার করলে প্রভূত উপকার পেতে পারি আমরা। এই অনন্য ভেষজ উপাদান টি হল সজনা গাছের পাতা। এই সজনা গাছের পাতার গুঁড়ো কে বলা হয় 'মোরিঙ্গা'। এমনিতেই সজনা গাছকে বলা হয় 'মিরাক্যাল প্ল্যান্ট'। তার কারণ হলো, সজনা গাছের ফল , ডাঁটা থেকে শুরু করে এই গাছের শিকড়, ছাল সবকিছুই মানুষের শরীরের প্রভূত উপকারে লাগে। সবথেকে উপকারী হলো সজনা গাছের পাতার গুঁড়ো বা মোরিঙ্গা। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই মরিঙ্গা কি উপকার করে মানব শরীরের।
মরিঙ্গা তে রয়েছে ৪৬ টি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি গরম প্রকৃতির' এবং কিছুটা তেতো। সবথেকে এটি সেবন করার উপযুক্ত ঋতু হলো শীতকাল। এই অনন্য ভেষজ উপাদান টি শরীরকে ভীতর থেকে পরিষ্কার করে এবং যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের শরীরে ক্ষারের পরিমাণে ভারসাম্য নিয়ে আসে। এছাড়াও এটা সর্দি কাশি উপশম করতে প্রভূত কাজে লাগে। কিন্তু যাদের শরীরে পিত্তের পরিমাণ অধিক, তাদের এটি ব্যবহার না করাই উচিৎ।
এক চামচ মোরিঙ্গার মধ্যে থাকে ৯ ক্যালোরি শক্তি। এর মধ্যে থাকে ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম প্রোটিন, ০.১ গ্রাম ফ্যাট।
এছাড়াও এর মধ্যে থাকে উচ্চ পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ, কে, সি। এছাড়াও থাকে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং জিংক।
এরমধ্যে গাজরের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ভিটামিন এ পাওয়া যায়, কমলালেবুর তুলনায় ১০ গুণ বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায়, এবং দুধের তুলনায় ১৭ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়, কলার তুলনায় ১৫ গুন বেশি পটাসিয়াম পাওয়া যায়, পালং শাকের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি আয়রন পাওয়া যায়, দই এর তুলনায় ৯ গুণ বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।
মরিঙ্গার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ওষধি ক্ষমতা। পরিমাণমতো এটি সেবন করলে শরীর থেকে বহু রোগ দূরীভূত হতে পারে। যেমন নারী শরীরে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দূর করতে এটি সাহায্য করে, হাড়ের সংযোগস্থলের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী, কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে শরীরকে বিরত রাখে। মানব শরীরের অবসাদ, অতিরিক্ত চিন্তা কে কমায়, শরীরের হজম ক্ষমতা গন্ডগোল প্রশমিত করে। এবং শরীরের ত্বক এবং চুলের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী একটি ভেষজ পদার্থ। যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এটি সাহায্য করে। ডায়াবেটিসের শিকার যেসব মানুষ তাদের ডায়াবেটিসকে এই ভেষজ পদার্থটি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। আলসার প্রতিরোধে এই পদার্থটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও থাইরয়েড এবং উচ্চ রক্তচাপে এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে শরীরকে সুগঠিত করতে সাহায্য করে এই উপকারী ভেষজ পদার্থটি। রাতের বেলায় এই ভেষজ দ্রব্য সেবন করলে ঘুমের সমস্যার সমাধান ঘটে।
তবে এটি সেবন করতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণে। দিনের বেলায় অথবা রাতের বেলায় এটি সেবন করা যেতে পারে।
তবে এটি সেবন করার ক্ষেত্রে কিছু বাধা নিষেধ ও রয়েছে যেমন, যাদের পাকস্থলী অত্যন্ত কমজোরি, তাদের এই ভেষজ উপাদান টি ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এছাড়াও যাদের লো ব্লাড প্রেসার এর সমস্যা রয়েছে তারা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এই ভেষজ উপাদানটি সেবন করতে পারেন। ঋতুস্রাব চলাকালীন মহিলাদের এটি ব্যবহার করা উচিৎ নয়। রক্তপাতজনিত সমস্যা থাকলে এটি সেবন না করাই যুক্তিযুক্ত। কখনোই শরীরে কোন সাইডএফেক্ট দেখা দিলে এটি সেবন করা থামিয়ে দিতে হবে।
একবার দেখে নিন একদিনের মধ্যে আপনি কত পরিমাণ মরিঙ্গা পাউডার সেবন করতে পারবেন-
প্রথমেই শুরু করুন এক চামচ বা চার থেকে পাঁচ গ্রাম মরিঙ্গা পাউডার দিয়ে। সব থেকে নিরাপদ পরিমাণ টি হল শরীরের ওজন অনুযায়ী ৫ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি।
বিভিন্নভাবে এই মরিঙ্গা পাউডার আপনি সেবন করতে পারেন, বিভিন্ন তরি-তরকারির সাথে, সবজির সাথে, জলের সাথে, চায়ের সাথে প্রকৃতির সাথে আপনি এই ভেষজ পাউডার সেবন করতে পারেন।
তথ্যসূত্র: ইউটিউব।