অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বাংলার বুকে । বীরভূমের শান্তিনিকেতন এ অস্ত্র এবং বিস্ফোরকসহ চার বাংলাদেশী দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। ধৃত দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে মিলেছে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে শান্তিনিকেতনের একটি বাড়ি থেকে এই চার দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়, সেই সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজন স্থানীয় কে'ও।
দুষ্কৃতীদের জেরা করে মিলেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে বীরভূমের একজন বড় মাপের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কে খুনের জন্য ওই বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের সুপারি দেওয়া হয়েছিল মোটা টাকার বিনিময়ে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতেই বাংলাদেশ থেকে ওই দুষ্কৃতীরা এখানে আসে। দুষ্কৃতীদের জেরা করে আরও জানা গিয়েছে যে, মেদিনীপুর জেলে বন্দী কোন এক কুখ্যাত আসামির দেওয়ার সুপারি অনুযায়ী তারা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার প্রচেষ্টায় ছিল। দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে পাওয়া আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পুলিশের অনুমান, শুধুমাত্র ওই নেতা নন, আরও সাত থেকে আট জনকে খুনের পরিকল্পনা ছিল ওই দুষ্কৃতীদের। এখনো পর্যন্ত টানা জেরা করা হচ্ছে ওই দুষ্কৃতীদের।
আগামী ২০২১ 'এ বিধানসভা ভোট রয়েছে রাজ্যে। তার আগেই এই দুষ্কৃতীরা ধরা পড়ায় পুলিশ অনুমান করছে, ভোটের আগে বড়সড়ো হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে রাজনৈতিক পটভূমিকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করতে সচেষ্ট ছিল দুষ্কৃতীরা। এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে সুপারি দেওয়ার নেপথ্যে আসল মাথাটি কে, তা খুঁজে বার করতে মরিয়া পুলিশ।
অভিযুক্তদের বীরভুমের বোলপুর আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ এটাও জানিয়েছে যে ওই দুষ্কৃতী দের কাছ থেকে আরও স্থানীয় কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে চাঁদের বাড়ি হল বীরভূমের লাভপুর এবং নানুর এলাকায়। কোন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের সুপারি দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে ঐ দুষ্কৃতীদের দফায় দফায় জেরা করছে বীরভূম পুলিশ।
বড় মাপের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আরো কোন দুষ্কৃতী এই সুপারির সাথে জড়িয়ে আছে কিনা তা জানতে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।