বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্রেক করেছে করোনা ভাইরাস । সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতা-মন্ত্রী অনেকেই এই ভাইরাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সারা পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুর দামামা বাজাচ্ছে এই ভাইরাস। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে যারা নিজেদের কর্তব্য অবিচল থেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত তারা হলেন - ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই কর্মচারীরা, এবং পুলিশ, দমকল, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নানান ক্ষেত্রের মানুষজন বিভিন্নভাবে এই পরিস্থিতিতে মানুষকে নিরন্তর সেবা করে চলেছেন। সবথেকে বেশি কৃতিত্ব দিতে হয় ডাক্তারদের, যাঁরা এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থেকে তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। কিন্তু এমনও অনেক ঘটনা ঘটছে যাতে এই ডাক্তারদেরও জীবনহানির চিত্রটা ধরা পড়ছে। করোনার গাছের প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন ডাক্তার। এবার একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটলো কেরলে। কেরলে আত্মঘাতী হলেন ৩৫ বছরের এক চিকিৎসক। জানা গিয়েছে এই ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কোল্লাম জেলার কিলিকোল্লুর থানা এলাকায়। আত্মঘাতী ওই চিকিৎসকের নাম অনুপ কৃষ্ণ।
ওই চিকিৎসকের হাসপাতাল টির নাম হল অনুপ অর্থো কেয়ার হাসপাতাল। কয়েক সপ্তাহ আগেই ওই চিকিৎসক একটি মেয়ের হাঁটুর অপারেশন করেছিলেন। ওই মেয়েটির বয়স ছিলো সাত বছর। কিন্তু হঠাৎই তার অপারেশনের সময় হার্ট অ্যাটাক হয় এবং মেয়েটি হঠাৎই মারা যায়। তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও ওই মেয়েটিকে মারা যায়। তারপরই ওই মেয়েটির মৃত্যুতে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে থাকে ওই নিহত মেয়েটির বাড়ির লোকজন।
পুলিশ তদন্ত শুরু করে ওই মেয়েটির মৃত্যুতে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলতে থাকে। ওই চিকিৎসককে বিভিন্নভাবে ওই মেয়েটির মৃত্যুতে দায়ী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আজে বাজে মন্তব্য করা হয়, এমনকি ওই চিকিৎসক কে খুনিও বলা হয়। পরপর এরকম মন্তব্য এবং লোকজনের অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই চিকিৎসক অপমানে আত্মঘাতী হয়েছেন। তিনি নিজের বাড়িতে আত্মহত্যার আগে দেওয়ালে সরি লিখে গিয়েছেন।
ওই চিকিৎসক এর মৃত্যুর পর অনেক চিকিৎসক এই ব্যাপারে প্রচণ্ড ক্ষোভ জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, এই করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে, অনেকেই ওই মেয়েটির অপারেশন করতে রাজি হয়নি, সেই সময় অনুপ এগিয়ে এসেছিলেন ওই শিশুটির অপারেশন করতে। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক এর ফলে ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরোপুরি দোষ দেওয়া হলো অনুপ বাবু কে। তাই বহু স্বনামধন্য চিকিৎসক সরব হয়েছেন যে প্রতিটি জনমানসে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা বহুবার ঘটেছে। চিকিৎসকরা মানুষ, তাঁরা কোন ভগবান নন। তাঁদের সাধ্যমতো তাঁরা রোগীদের বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনেক সময় এমন ঘটনা থাকে যা নিয়ন্ত্রণ করা চিকিৎসকদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
তাই যথাযথ একটি সাইবার আইন প্রণয়ন করা খুবই প্রয়োজন। না হলে অনুপ বাবুর মত স্বনামধন্য আরো চিকিৎসককে আবার হারাতে হতে পারে।