বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দূষণের কারণে প্রভূত ক্ষতিসাধন হচ্ছে জীবজগতের। সেইসাথে প্রাকৃতিক বিপর্যয় গুলি যথেষ্ট পরিমানে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। পরিবেশ দূষণের কুফল গুলি প্রতিমুহূর্তে উপলব্ধি করতে পারছি আমরা। বিশেষ করে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা বাড়ছে জীবজগতের। বায়ু দূষণের ফলে পরিবেশের যথেষ্ট ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। ধুলোর অত্যন্ত দূষণ জনিত কারণে পর্বতমালার বরফ গলে যাচ্ছে। যার ফলে জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ইত্যাদি নদীগুলির। এই ভয়াবহ তথ্যটি প্রদান করেছেন আমেরিকা এবং ভারতের দুই বিজ্ঞানী। তাদের নাম হলো ইউন কিয়েন এবং চন্দন সারেঙ্গী।
এই দুই বিজ্ঞানী তাদের গবেষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, আফ্রিকা এবং এশিয়ার যথেষ্ট পরিমাণে ধুলো হিমালয়ের শৃঙ্গের উপর দিয়ে ক্রমাগত বয়ে যাওয়ার কারণে যথেষ্ট পরিমাণে বরফ গলে যাচ্ছে হিমালয়ের। ওই দুই বিজ্ঞানী জানিয়েছেন যে, এই বিষয়টিকে বলা হয় 'অ্যালবেডো এফেক্ট'। সূর্যের তাপের ফলে ওই ধুলো প্রচন্ড পরিমানে উত্তপ্ত হয়ে থাকে। এবং ওই ধুলোর রাশি যখন হিমালয়ের শৃঙ্গের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তখন হু হু করে গলে যাচ্ছে হিমালয়ের বরফ। যার ফলে বিপজ্জনকভাবে জল বাড়তে চলেছে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদীগুলির ।
যার ফলে অশনিসংকেত ঘনিয়ে এসেছে ভারতের বুকে। ওই দুই বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, এমন অস্বাভাবিক হারে বরফ গলতে শুরু করলে অচিরেই সমগ্র ভারত বর্ষ ব্যাপক প্লাবনের সম্মুখীন হবে। প্রকৃতির কাছে মানুষ আজও অসহায়। কিন্তু এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে মানুষ নিজে থেকে সচেতন হলে তার অস্তিত্ব বহুদিন পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।
এই পরিস্থিতির সমাধান কিভাবে সম্ভব তা নির্ণয় করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ওই দুই বিজ্ঞানী।