একটি অপরিহার্য ভেষজ গাছ হল নিমগাছ। এই গাছের পাতা থেকে শুরু করে, ছাল, শিকড় সমত কিছুরই উল্লেখযোগ্য ওষধি গুণ বর্তমান। নিমগাছের কাঠের স্থায়িত্ব ব্যাপক। কারণ নিমকাঠ দ্বারা নির্মিত আসবাবপত্রে কখনোই ঘুণ ধরে যায়না। নিমপাতার মধ্যে রয়েছে অসাধারণ কিছু ওষধি গুণ। তাই প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নিমপাতাকে গুরুত্বপূর্ণ ওষধি বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রাচীন কবিরাজরা নিমগাছের পাতা, শিকড় থেকে বহু উপকারী ঔষধ তৈরি করতেন।
নিম পাতা খুবই উপকার সাধন করে মনুষ্য শরীরে। যেমন প্রথমেই নিম পাতা মাথার চুলে অত্যাধিক খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। যাদের মাথায় অত্যাধিক খুশকির সমস্যা রয়েছে, তারা বেশ কয়েকটি নিমপাতা নিয়ে একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে নিমপাতা গুলি দিয়ে দিন এবং জল ফোটাতে থাকুন। জলের রঙ হালকা সবুজ হয়ে এলে পাত্রটি নামিয়ে নিন এবং জল ঠান্ডা করুন। স্নান করার সময় এই জল দিয়ে ভালোভাবে মাথাটি পরিষ্কার করুন। এর ফলে আপনার খুশকির সমস্যা অচিরেই দূর হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত, নিম পাতা এবং কাঁচা হলুদের পেস্ট বহু উপকারে আসে। যেমন ত্বকের মধ্যে ব্রণ , কালো দাগ দূর করতে হলে নিম পাতা এবং কাঁচা হলুদের পেস্ট করে তা মুখে মেখে নিন। এক থেকে দেড় ঘন্টা মুখে মেখে রেখে তারপর ভালোভাবে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এর ফলে অচিরেই আপনার মুখের কালো দাগ এবং ব্রণর সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
তৃতীয়ত, শরীরের কোথাও কেটে গেলে অথবা বিষাক্ত কীট পতঙ্গ কামড়ে দিলে সেই ক্ষত স্থানে নিম পাতা এবং কাঁচা হলুদের পেস্ট দিলে তা অতি দ্রুত সেই ক্ষত নিরাময় হতে সাহায্য করে। সেই সাথে ব্যথা উপশম করে।
চতুর্থত, অনেকেই নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজেন। নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজার ফলে দাঁতে জমে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া গুলি দূর হয় এবং সেই সাথে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
পঞ্চমত, অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। প্রতিদিন এক চামচ করে নিমপাতার রস খালি পেটে খেলে, শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এবং সেইসাথে লিভারের নানান সমস্যা দূর হয়ে যায়। নিম পাতার রস শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান গুলি কে দূর করে দেয়।
ষষ্ঠত, প্রতিদিন সকালে নিম পাতার রস জলের সঙ্গে পান করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
সপ্তমত, নিম পাতা গরম জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে নিয়ে তা দিয়ে চোখে ঝাপটা দিলে চোখের ছোটখাটো নানান সমস্যা গুলি থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব হয়।