সারা ভারতে পরপর নারী নিগ্রহের ঘটনায় যথেষ্ট আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণ কাণ্ড সারা ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারপর থেকেই আরো বেশ কয়েকটি নারী নির্যাতনের ঘটনা দেখা গিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এবার আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে। এক তরুণীকে প্রকাশ্যে গলায় ছুরির কোপ মেরে খুন করার চেষ্টা করে নিজে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছে প্রেমিক।
এই ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা বেলা। জানা গিয়েছে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তরুণী সুচিত্রা বার এবং ওই অভিযুক্ত যুবক অসীম ঝুলকিকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
তাদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই ১৭ বছর বয়সী সুচিত্রার সাথে প্রেম ছিলো ২৫ বছর বয়সী অসীমের। কিন্তু হঠাৎই তাদের এই দীর্ঘদিনের প্রেমের পথে নানান বাদা বিপত্তি আসতে শুরু করে। যার জন্য এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চায় সুচিত্রা। প্রেমের এই জটিলতার আবহে অসীম যে হঠাৎ করে এমন ভয়াবহ কান্ড ঘটাতে পারে তা কারো ধারণার মধ্যে ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা সুচিত্রা যখন টিউশন থেকে বাড়ি ফিরছিল, ঠিক তখন রাস্তায় সুচিত্রাকে গালিগালাজ করে অসীম এবং সুচিত্রা ফোন ছিনিয়ে নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেয়। বাড়ি ফিরে সুচিত্রা অসীমকে ফোন করে। তখন অসীম একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সুচিত্রাকে দেখা করতে যেতে বলে এবং সুচিত্রা দেখা করতে রাজি হয়। সুচিত্রা সাথে তার মা এবং দিদি গিয়েছিল। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে অসীমের সঙ্গে দেখা করে সুচিত্রা, কথা হতে হতে দুজনের মধ্যে অশান্তি চরমে পৌঁছায়, কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করে ধারালো অস্ত্র বার করে সুচিত্রার হাতে এবং গলায় পরপর কোপ মারে অসীম। রক্তাক্ত সুচিত্রা লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। সুচিত্রার মা এবং দিদি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও সুচিত্রাকে ওই আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে তারা ব্যর্থ হন। তারপরও অসীম নিজের গলায় ওই ধারালো অস্ত্র চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা আর্তচিৎকারে ছুটে আসে। দুজনকেই অত্যন্ত আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুচিত্রার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গীন। অসীমের অবস্থাও গুরুতর। পুলিশ খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করেছে।
এই ঘটনা আবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে প্রমাণ করে দিলো যে আমরা সভ্য হলেও এখনো উন্নত মানসিকতার আলোক আমাদের স্পর্শ করতে পারছে না।