বর্তমানে সারা ভারত জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে করোনা ভাইরাস। এখনো পর্যন্ত বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এই ভাইরাসের কবলে পড়ে। কিন্তু এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও অপরাধ জগতের অপরাধ প্রবণতা কমেনি একটুও। বরং দিনের পর দিন বাংলার বুকে বেড়ে চলেছে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য। ঠিক এ রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে চিৎপুরে এক অভিজাত ও আবাসনে।
চিৎপুরের অভিজাত আবাসন টিতে মদের আসর বসেছিল। সেখানে দুষ্কৃতীরা একে অপরের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পৌঁছে যায় সেখানে, পুলিশ দেখে ফ্ল্যাট থেকে পালানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। তখন সেখানে ফ্ল্যাট থেকে ঝাঁপ দেয় কুখ্যাত দুষ্কৃতী আব্দুল হোসেন। সে হুগলি দাপুটে দুষ্কৃতী হিসেবে কুখ্যাত। এই দুষ্কৃতী আব্দুল এর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, খুন, ডাকাতি সহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে চিৎপুরের
পাইকপাড়া এলাকায়। কুখ্যাত দুষ্কৃতী আব্দুল ওরফে সেন্টিয়া'কে বেশ কয়েকদিন ধরে খুঁজছিল পুলিশ।
যে আবাসনে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সেই আবাসনেই রয়েছে এলাকার নামকরা রাজনৈতিক নেতার ফ্ল্যাট।
আবাসিক রা জানিয়েছেন, গত শনিবার দিন সকালে ওই ফ্ল্যাটে বসেছিল মদের আসর। সেখানে ওই রাজনৈতিক নেতার সাথে উপস্থিত ছিলেন তার রাধুনী, একজন পুলিশ কর্মী, এবং দুষ্কৃতী আব্দুল। সেখানে দুজন যৌনকর্মী কেও আনা হয়েছিল। কিন্তু আবাসিক রা জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকেই অত্যন্ত চেঁচামেচি , জিনিসপত্র ভাঙচুরের আওয়াজে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন আবাসিক রা। তখনই ওই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসে একজন রক্তাক্ত যৌনকর্মী। সে বাইরে এসে ফ্ল্যাটটির দরজা বন্ধ করে দেয় বাইরে থেকে। তারপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ চলে আসে। পুলিশ দেখে চারতলার জানলা দিয়ে ঝাঁপ দেয় অভিযুক্ত দুষ্কৃতী আব্দুল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল সিল করে দিয়েছে । ওই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে সিগারেট এবং মদের বোতল। বেশ কয়েকটি ভাঙা মদের বোতল পাওয়া গিয়েছে সেখান থেকে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটে সর্বত্র ব্যাপক পরিমাণে ধস্তাধস্তির চিহ্ন বিরাজমান। ফ্ল্যাটের চারদিকে রক্তের ছড়াছড়ি।
ঘটনাস্থলে থাকা আরেক জন পুলিশ কর্মী, গাড়ির চালক, ওই রাজনৈতিক নেতার রাধুনী এবং দুই যৌনকর্মীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ওই রাজনৈতিক নেতাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
সকালবেলায় এরকম একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সরগরম হয়ে রয়েছে সমগ্র চিৎপুর।