সারা পৃথিবী জুড়ে মৃত্যুর ভয়াবহ জাল বিস্তার করেছে করোনা মহামারী । এই ভয়ঙ্কর মহামারীর কবলে পড়ে প্রাণ গিয়েছে সারা বিশ্বের মধ্যে ১১ লক্ষ ৩০ হাজার ৬২০ জনের। ভারতেও রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে এই ভয়াবহ ভাইরাস। ভারত এই ভাইরাসের শিকার হয়েছেন মোট ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৫০ জন। প্রতিটি মানুষকে নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হচ্ছে। এবং সেইসাথে প্রশাসনিক নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে যে কিভাবে এই রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। কিন্তু সমাজে বেশকিছু শ্রেণীর মানুষ এখনো পর্যন্ত এই মহামারী কে অবজ্ঞা করে চলেছেন। যার ফলে দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা, অনেকেই স্যানিটাইজার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকছেন, অনেকেই মাস্ক না পরেই বাইরে বেরিয়ে পড়ছেন। তাই এবার কেন্দ্র মানুষকে কঠোরভাবে নির্দেশিকা দিয়েছে যে, মাস্ক করে অবশ্যই বাড়ির বাইরে বেরোতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে সবথেকে উপকারী এবং অপরিহার্য বস্তু হল মাস্ক। এখন প্রায় প্রতিটি মানুষ মাস্কের ব্যবহার করছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে দোকানে মাস্কের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে মাস্ক কিনতে গিয়ে হয়রানির মুখে পড়ছে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরা। বিশেষ করে এন-৯৫ মাস্কের দাম দিনের পর দিন ঊর্ধমুখী হয়ে চলেছে। তাই এবার মাস্কের মূল্যে নিয়ন্ত্রণ জারি করল মহারাষ্ট্র সরকার। মহারাষ্ট্র সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে যাতে দুটি স্তর বিশিষ্ট মাস্কের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ টাকা, তিনটি স্তর বিশিষ্ট মাস্কের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ চার টাকা , এবং উন্নত মানের এন-৯৫ মাস্কের দাম রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫৯ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১৯ টাকা। মহারাষ্ট্র সরকার একটি বিবৃতি জারি করে এই ঘোষণা করেছে।
এছাড়াও মহারাষ্ট্র সরকার নির্দেশিকা দিয়েছে যে এই সরকারি নির্দেশিকা টাঙ্গানো থাকবে মাস্ক নির্মাতা কোম্পানিগুলির থেকে শুরু করে প্রধান ডিস্ট্রিবিউটর, এবং খুচরো দোকানদারদের কাছে।
মহারাষ্ট্র বর্তমানে সংক্রমনের দিক থেকে সারা দেশের মধ্যে প্রথম রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮,১৫১ জন।
মাস্কের দাম বেঁধে দেওয়ায় সাধারণ মানুষসহ ও নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদের অনেকটাই উপকার হবে বলে আশাবাদী মহারাষ্ট্র সরকার।