বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়ন সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি অভিশাপস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে সবথেকে বেশি ক্ষতি লক্ষিত হচ্ছে অ্যান্টার্কটিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বরফাবৃত এলাকায়। বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকা এবং মেরু প্রদেশের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রের জল স্তর বাড়িয়ে দিচ্ছে। যার ফলে খুব অল্প দিনের মধ্যেই জলের অতলে তলিয়ে যেতে বসেছে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা।
নাসার উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে ভয়াবহ দৃশ্য। আন্টার্কটিকা সহ মেরু প্রদেশের বরফ গলে গিয়ে ডুবিয়ে দিতে পারে ভারতের কলকাতা, মুম্বাই এবং গুজরাট কে। এবং এই পরিস্থিতির উদ্রেক হতে পারে আর ৩০ বছর পরেই । চিনের বহু শহরও জলের গর্ভে চলে যেতে পারে। অনান্য মহাদেশ গুলিও জলের গভীরে চলে যেতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রের গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে কলকাতা, মুম্বাই এবং গুজরাট। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে দক্ষিণ মেরুর বরফ অতিদ্রুত গলতে শুরু করেছে। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতল প্রায় ১২ মিলিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার এই জলস্তর যদি বিপদসীমা অতিক্রম করে যায় তাহলে রক্ষা পাবেনা পৃথিবীর বহু জায়গা।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আমেরিকা, চিন, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ,ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইংল্যান্ড সহ পৃথিবীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলি জলের গভীরে তলিয়ে যেতে পারে। এমনিতেই বছরে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার জায়গা সমুদ্রের তলায় চলে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে অ্যান্টার্কটিকা এবং গ্রীনল্যান্ডের বরফ এর রাশি রাশি স্তুপ আরো গলতে থাকবে। সমুদ্র জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে যার ফলে সমুদ্রের প্রাণীরা মারা যাবে, দেখা দেবে খাদ্য সংকট। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে যদি তিন ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ে , তাহলে জলস্তর অন্তত আধ মিটার বৃদ্ধি পেতে বাধ্য। যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর বহু জায়গা জলের তলায় তলিয়ে যাবে এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাহলে পৃথিবীর ভবিষ্যতে কি লেখা রয়েছে? অচিরেই কি ধ্বংসের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা?