অনেক সময় সমাজে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায় , যা রীতিমতো আমাদেরকে স্তম্ভিত করে দেয়। কিছু অপরাধমূলক ঘটনা দেখে রীতিমতো বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই আমরা। ঠিক এমনই একটি ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে মথুরায়।
৪২ বছর বয়সী মনোজ মিশ্র অন্যান্য বাবাদের মতোই নিজের দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরত ছেলেকে বকা ঝকা করেছিলেন। কিন্তু সেটা যে তার প্রাণ সংশয় এর কারণ হয়ে দাঁড়াবে সে কথা একবারও কল্পণা করতে পারেননি তিনি। নিজের ছেলে নৃশংস ভাবে খুন করলো মনোজ বাবুকে। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় এটাই দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরত ছেলে বাবাকে খুন করার আগে রীতিমতো ইউটিউবে একটি ক্রাইম থ্রিলার দেখেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অন্ততঃ একশো বারেরও বেশি সময় ধরে ওই ক্রাইম থ্রিলার দেখেছে পিতৃহন্তা ছেলেটি । তার কারণ সে খুন করার পর কিভাবে দেহ লোপাট করবে সে সমস্ত তথ্য প্রমাণ জোগাড় করার উদ্দেশ্যেই এই ক্রাইম থ্রিলার সে দেখেছিল। জানা গিয়েছে প্রথমে লোহার রড দিয়ে সে তার বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করে। তারপর জ্ঞানহীন বাবার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে নিজের বাবাকে। তারপর বাবার দেহ লোপাট করার চেষ্টা করে ওই গুণধর ছেলে। আরও অবাক হওয়ার বিষয় এটাই এই কাজে ওই ছেলেকে সাহায্য করেছে তার মা। পুলিশ জানিয়েছে বাবার মৃতদেহ জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ছেলেটি। ইসকনে কর্মরত ছিলেন মনোজ বাবু।
মনোজ বাবু নিরুদ্দেশ থাকায় ইসকন কর্তৃপক্ষ ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে মনোজ বাবুর পরিবারকে, যার ফলে ইসকন এর কাছে নতি স্বীকার করে থানায় নিরুদ্দেশ এর অভিযোগ দায়ের করে মনোজ বাবুর স্ত্রী। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না, জঙ্গলে আধপোড়া দেহ দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। তারপর মনসাপুর সহকর্মীরা তার দেহটি শনাক্ত করতে পারেন। তারপর পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র স্বীকার করে যে সে'ই খুন করেছে বাবাকে।
শুধুমাত্র বকাঝকা করার জন্য একজন মানুষের চেয়ে এই পরিণতি হতে পারে তা দেখে সারা দেশবাসীর তাজ্জব হয়ে গিয়েছে।