বেশ কিছু অপরাধমূলক ঘটনা রীতিমতো তাজ্জব বানিয়ে দেয় আমাদের। এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সারা দেশের মধ্যে অপরাধমূলক কাজ কর্মের বিরাম নেই। কিন্তু তারই মধ্যে এমন কিছু অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে যা রীতিমতো নৃশংস এবং বেদনাদায়ক। এরকমই একটি জঘন্য ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। এমনিতেই এই রাজ্যটি বরাবর বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ কর্মের জন্য কুখ্যাত হয়ে রয়েছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের হাথরাস গণধর্ষণ কাণ্ড সারাদেশকে উত্তাল করে দিয়েছে। এবার সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার একটি নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্য পড়ে গিয়েছে সারাদেশে।
পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে অনেক সময় নিজের ছেলে বা মেয়েকে খুন করার ঘটনা আকছার ঘটেছে ভারতের বুকে। ঠিক এ রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে। সেখানে নিজের অবিবাহিতা গর্ভবতী মেয়েকে লোকলজ্জার ভয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে আলবাপুরে রেল লাইনের উপরে ফেলে দিয়ে চলে এলো তার বাবা-মা। পুলিশ এই হতভাগ্য মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
প্রথমে রেল লাইনের ধার থেকে মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তে দেখা যায় ওই যুবতী গর্ভবতী ছিলেন। তখনই তার বাবা কমলেশ এবং তার মা অনিতা দেবী কে রীতিমত জেরা করতে শুরু করে পুলিশ। কিন্তু মেয়েটির বাবা কমলেশ উল্টে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলো যে, তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু অবশেষে পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়েছে স্বীকার করে সে এবং তার স্ত্রী দুজনে মিলেই তাদের মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছে। কমলেশ পুলিশকে জানিয়েছে , হঠাৎ করে তার মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল, কিন্তু সেই সন্তানের বাবা কে এই বিষয়টি কিছুতেই বলতে চাইছিল না তার মেয়ে। গর্ভপাত করাতে নিয়ে গেলেও ৬ মাস কেটে যাওয়ার দরুন গর্ভপাত সম্ভবপর হয়নি। তখনই চরম লোকলজ্জার ভয়ে তার বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেয়েকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে।
পরিকল্পনা মতো রাত্রিবেলা রেললাইনের ধারে নিয়ে গিয়ে তার মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে তার বাবা-মা। সাথে সাথেই প্রাণ হারায় হতভাগ্য ওই মেয়েটি। তারপর মেয়ে মৃতদেহ রেললাইনে ফেলে দিয়ে চলে আসে তার বাবা-মা।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই সারা দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে। সকলেই এই মেয়েটির বাবা-মার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।