সাপ শব্দটি শুনলে মনের ভিতর ভয়ের উদ্রেক হলেও আদতে সাপ অত্যন্ত ভীতু এবং নিরীহ প্রাণী। এরা সাধারণত মানুষের বাসস্থান থেকে দূরে থাকতেই ভালোবাসে। এই সাপ ঘিরে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু কুসংস্কার। কিন্তু পরিবেশবিদরা বারবার বলে আসছেন পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সাপের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ভয়ে, অকারণে সাপ পিটিয়ে মেরে দেওয়া প্রায়শই দেখা যায়। কিন্তু সাপ দেখা গেলে তাকে অযথা পিটিয়ে না মেরে তাকে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া উচিৎ।
ভারতবর্ষে রয়েছে জীব বৈচিত্র্যের সমাহার। তেমনি ভারতবর্ষের পরিলক্ষিত হয় বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। তার মধ্যে কিছু বিষাক্ত এবং কিছু নির্বিষ। একবার চটপট দেখে নিন ভারতে বিষাক্ত কয়ৈক ধরনের সাপের সম্বন্ধে।
ভারতে মোট ৬০ ধরণের বিষাক্ত সাপ রয়েছে। যেমন ,
ব্যান্ডেড ক্রেইট বা শাঁখামুটি
এই প্রজাতির সাপ দেখতে হলুদ এবং কালো ডোরাকাটা হয়। এইসব সর্বোচ্চ ৬ ফুটেরও বেশি হতে পারে। অত্যন্ত বিষধর সাপ পাওয়া যায় মিজোরাম থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম প্রভৃতি জেলায়। এইসব সাধারণত কাউকে চট করে কামড়ায় না। তবে বিরক্ত করা হলে এটি কামড়াতে পারে। এইসব সাধারণত অন্যান্য সাপেদের ধরে খায়।
কিং কোবরা বা শঙ্খচূড়
ভারতের মধ্যে সবথেকে বিষাক্ত সাপ হলো শঙ্খচূড় বা কিং কোবরা। সাধারনত এই সাপ ১০ ফুট থেকে শুরু করে ১৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। নিউরোটক্সিন বিষ এদের তীব্র প্রাণঘাতী বানায়। এই প্রজাতির সাপ সাধারণত বেশি পাওয়া যায় তামিলনাড়ু, কেরালা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহারে। এইসব সাধারণত অন্য প্রজাতির সাপ ইঁদুর, পাখি ইত্যাদি খেয়ে থাকে ।
স্প্যাকটেকেলড্ কোবরা বা গোখরো।
এইসব ভারতের মধ্যে পাওয়া অন্যতম বিষধর সাপ। এই সাপ সাধারণত লম্বা হতে ৪ ফুট থেকে শুরু করে ১০ ফুট পর্যন্ত। এই সাপের মধ্যে আবার বিভিন্ন ধরনের প্রজাতি পরিলক্ষিত হয়। অত্যন্ত প্রাণঘাতী নিউরোটক্সিন বিষ এদের শরীরে দেখা যায়। সাধারণত ছোট সাপ থেকে শুরু করে কাঠবিড়ালি, ব্যাঙ, ইঁদুর, ছোট পাখি এরা খেয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে ভারতের সর্বত্র এদের দেখা মেলে।
রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া
ভারতের অন্যতম বিষাক্ত এই সাপটির শরীরে দেখা যায় হিমোটক্সিন বিষ। প্রাণঘাতী এই বিষ এখনো পর্যন্ত বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রায় ১২৪ সেন্টিমিটার এর থেকেও লম্বা হতে পারে এই সাপ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে পাঞ্জাব, বিহার, উড়িষ্যা প্রভৃতি জায়গায় এই সাপের দেখা মেলে।
কেউটে
তীব্র নিউরোটক্সিন বিষযুক্ত এইসব সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের মাঠে-ঘাটে বেশি দেখা যায়। সাধারণত মেঠো ইঁদুর থেকে শুরু করে ব্যাং, এবং ছোট প্রজাতির পাখি খেয়ে বেঁচে থাকে এই সাপ। বিগত ১০ বছরে এই সাপের আনাগোনা যথেষ্ট কম হয়ে গিয়েছে পশ্চিম বাংলার বুকে যা পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। অত্যন্ত চতুর এবং গতি সম্পন্ন এই সাপ সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে থাকতে ভালোবাসে। প্রায় ৬ ফুটেরও বেশি লম্বা হয় এই সাপ ।