প্রেতের অস্তিত্ব নিয়ে চিরকাল বিজ্ঞান সন্দেহ প্রকাশ করে এসেছে। কিন্তু বহু মানুষ এখনো প্রেতের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করেন। অনেকেই এখনো মনে করেন যে, 'তেনারা' আছেন। বহু মানুষ এখনো মনে করেন যে তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রেতপুরীর বাসিন্দারা। সেরকমই একটি ঘটনা তুলে ধরা হলো আপনাদের সামনে।
ভারতের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু জায়গা যেগুলি লোকমুখে প্রচলিত ভৌতিক জায়গা হিসাবে। সেরকমই একটি জায়গা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বুকে অবস্থিত বাঁকুড়ার একটি গ্রাম। এই গ্রামের নাম চালিবাড়ি ডিহিপাড়া। এই গ্রামটি লোকমুখে প্রচলিত ভৌতিক গ্রাম হিসাবে । কিন্তু জানা যায় বছর পাঁচেক আগে এই গ্রামে বসবাস করত প্রায় কুড়িটি পরিবার । জীবন এগিয়ে চলছিল রীতিমতো স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু হঠাৎই একদিন এই গ্রামের এক যুবক রহস্যজনক ভাবে খুন হয়ে যায়। এবং তারপর থেকেই বদলে যেতে থাকে স্বাভাবিক চিত্রগুলি। প্রতি রাতে গ্রামের এদিকে ওদিকে ওই যুবকের অশরীরী আত্মা কে দেখতে পায় গ্রামবাসীরা। প্রতিটি গ্রামবাসীর বাড়িতে নাকি ওই নিহত যুবকের আত্মার আনাগোনা শুরু হয়। যার ফলে একসময় আতঙ্কে ঘর ছাড়তে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। তবে তিন থেকে চারটি পরিবার শেষমেষ গ্রামে আসেন কিন্তু তারাও প্রতিটি দিন আতঙ্ক কে সঙ্গী করে দিন কাটাচ্ছেন।
আরো অন্যতম একটি কারণ হলো এই গ্রামে এখনো বিদ্যুতের আলো পৌঁছায় নি। এমনকি রাস্তাঘাট এখনো কাঁচা। প্রশাসনিক তরফে আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়নি এই গ্রামে।
গ্রামটিতে গেলে দেখা যাবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে উঁকি মারছে কয়েকটি বাড়ি অস্তিত্ব।
সন্ধ্যার পরই যে কয়েকটি পরিবার আছে তারা আর বাইরে বেরোন না। এবং বাইরে থেকে কেউ এই গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন না।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস অপঘাতে মৃত্যুর পর ওই খুন হয়ে যাওয়া যুবকের আত্মা এখনো অতৃপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রামের আনাচে-কানাচে। আতঙ্কের মধ্যে নির্জনতা এবং ভয় কে সঙ্গী করে দিন কাটাচ্ছেন এই গ্রামের বাকি কয়েকটি পরিবার।