সারা ভারতে কয়েক মাসের মধ্যেই নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে । বিশেষ করে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বুকে ঘটে যাওয়া হাথরাস গণধর্ষণ কাণ্ড সারাদেশে তীব্র আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। সমস্ত ঘটনা গুলি থেকে এই বিষয়টি খুবই উদ্বেগের যে ভারতে নারী সুরক্ষার দিকটি অন্ধকারে তলিয়ে যেতে বসেছে। আবারো এক নৃশংস ঘটনা ঘটলো সেই উত্তরপ্রদেশেই। মাত্র ছয় বছরের মেয়েকে গণধর্ষণ করে ধর্ষকরা হৃদপিন্ড ও ফুসফুস কেটে নিল। দেশ উন্নত হলেও এখনো মানুষের মন থেকে কুসংস্কারের ছাপ কাটেনি। তারই এক নিদর্শন মিলল উত্তরপ্রদেশের এই অমানবিক ঘটনায়।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের। দেওয়ালির রাত্রে হঠাৎ করেই ওই মেয়েটি উধাও হয়ে যায়। দেওয়ালির প্রস্তুতি নেওয়ার সাথে সাথে বাড়ির লোক লক্ষ্য করে যে মেয়েটি অনেকক্ষণ ধরে নিখোঁজ। তাকে আশে পাশের জঙ্গলে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হলে পাওয়া যায়নি মেয়েটির কোন চিহ্ন। পরদিন সকালে গ্রামের বাসিন্দারা ওই শিশু কন্যার দেহ দেখতে পায়। মেয়েটির জুতো ও জামাকাপড় একটি গাছের কাছে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তারপরেই মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে মাত্র ছয় বছর বয়সী ওই কন্যাকে গণধর্ষণ করে হৃদপিন্ড ও ফুসফুস কেটে নেওয়া হয়েছে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ওই বাচ্চা মেয়েটি কালা জাদুর শিকার হয়েছে।
অভিযুক্তের নাম অনকুল কুড়িল ও বিরাল। তারাই পুলিশের কাছে প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে স্বীকার করে নেয় যে অনকুল ও তার বন্ধু মেয়েটিকে অপহরণ করে মদের নেশায় ধর্ষণ করে হত্যা করে। তারপর তার দেহ থেকে হৃদপিন্ড ও ফুসফুস কেটে নেয়। এমনটা জানা গেছে কোন এক মহিলাকে সন্তানের সুখ দেবে বলে এই কালা জাদু করা হয়।
কিন্তু পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছেন মেয়েটি কুসংস্কারের শিকার হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে সঠিক প্রমাণ জোগাড় করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কে কাজে লাগানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ব্যাপারে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। এবং ধর্ষকদের যাতে যথাসাধ্য শাস্তি হয় সে বিষয়েও তিনি যথেষ্ট সরব হয়েছেন।