ভারতের প্রাচীন বিখ্যাত কূটনীতিক ছিলেন চাণক্য বা কৌটিল্য। তাঁর প্রদর্শিত পথে অনুসরণ করেছেন বহু রথী-মহারথীরা । জীবনে সফল হওয়ার পথে বিভিন্ন নিয়ম নীতি পালন করার কথা বলে গিয়েছেন। মানুষের প্রকৃত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কিভাবে জানা যায় সে সম্পর্কে তিনি অনেক কথা বলেছেন। তাঁর বিখ্যাত বই অর্থশাস্ত্র সারা পৃথিবী জুড়ে সমর্থন রয়েছে।
পন্ডিত চাণক্য বলেছেন প্রতিটি মানুষ যদি চায় তার উপর মা লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষিত হোক তাহলে অবিলম্বে তাকে তিনটি অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ সকলেই জানি মা লক্ষ্মী ভীষণ চঞ্চল প্রকৃতির। তিনি কখনই এক জায়গায় অনেকদিন স্থায়ী থাকতে পারেন না। যে মানুষের উপর মা লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষিত হয় তার জীবন হয়ে ওঠে সুখ সম্পদের প্রাচুর্যময়। কিছু মানুষের উপর থেকে মা লক্ষ্মীর কৃপা সরে যায় তাদের জীবনে উদ্ভব হয় প্রবল দুঃখ এবং দুর্দশার।
আসুন জেনে নিন কি কি সেই তিন অভ্যাস এড়িয়ে চললে মা লক্ষ্মীর সুদৃষ্টি পড়বে আপনার উপরে।
প্রথমত মানুষকে নিজের লোভ ত্যাগ করতে হবে। অতিরিক্ত লোভ মানুষকে অন্ধকারের দিকে নিক্ষেপ করে। তাই প্রতিটি মানুষের লোভ সংবরণ করা উচিত এবং নিজের সাধ্যমত যে প্রাপ্তিটা সে পাবে সেটা নিয়েই তাকে সন্তুষ্ট থাকা উচিত।
দ্বিতীয়তঃ কেউ যদি অপর কোনো ব্যক্তিকে অপমান করে শান্তি পান তাহলে সেটা তার পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই সাথে সেই ব্যক্তির উপর থেকে মা লক্ষ্মীর কৃপা চলে যাবে। তাই কখনোই কোনো রকম পরিস্থিতিতে কোনো মানুষকে অপমানজনক কথা বলবেন না। এটি মেনে চললে আপনার জীবনে মা লক্ষ্মীর কৃপা অবশ্যই বর্ষিত হবে।
তৃতীয়তঃ চাণক্য কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন সকল কেই অতিরিক্ত রাগ সংবরণ করতে হবে। রাগে আমরা এমন কিছু কাজ করে থাকি যা পরবর্তী সময়ে আমাদের দুরবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই সাথে অতিরিক্ত রাগ মা লক্ষীকে আরও চঞ্চলা করে দেয়। তাই মা লক্ষ্মীর কৃপার পাত্র হতে চাইলে অতিরিক্ত রাগ একদমই বর্জন করতে হবে। কারণ রাগ মানুষকে বিপথে চালিত করে।
উক্ত তিন নীতি যদি আপনি মেনে চলতে পারেন, তাহলে অচিরেই আপনি জীবনে সাফল্যের সিঁড়ি চড়ায় একধাপ এগিয়ে যাবেন।